ঢাকায় সোমবার দুপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে। একটি ছোট আকারের প্রশিক্ষণ বিমান হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কলেজের ক্যাম্পাসে ভেঙে পড়ে। ঘটনার সময় ক্লাস চলছিল। ফলে হুড়োহুড়ি শুরু হয় ক্যাম্পাসে, শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে থাকেন এদিক-ওদিক। কেউ বুঝে উঠতে পারেননি ঠিক কী ঘটছে। আকাশ থেকে নামতে থাকা বিমানের গর্জন আর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানের ইঞ্জিন থেকে কিছুক্ষণের জন্য ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়, এরপর সেটি নিচের দিকে দ্রুত গতিতে নেমে আসে এবং একটি খোলা মাঠের পাশ ঘেঁষে ভেঙে পড়ে কলেজ চত্বরে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় বিমানে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা তখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন। গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভয় আর আতঙ্ক।
বিমানটি একটি প্রশিক্ষণ এয়ারক্রাফ্ট বলে জানা গিয়েছে, যার ভিতরে দু’জন প্রশিক্ষণার্থী পাইলট ছিলেন। তাঁদের একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আরেকজন আংশিক আহত। দুইজনকেই তৎক্ষণাৎ ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে উপস্থিত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যদিও তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিমানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়েছিল এবং শেষ মুহূর্তে পাইলট একটি ফাঁকা জায়গা দেখে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন। হয়তো সেই সাহসিকতাই অনেক বড় প্রাণহানি আটকাতে পেরেছে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
ঘটনার পরই বিশাল পুলিশ বাহিনী, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে কলেজের সমস্ত ক্লাস ও কার্যক্রম। সরকারিভাবে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই দুর্ঘটনা ঘিরে চরম আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অনেকে দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন, কেউবা পাইলটদের সাহসের প্রশংসা করছেন, কেউ আবার কলেজ ক্যাম্পাসের মতো জনবহুল এলাকায় এমন প্রশিক্ষণ বিমান ওড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
এই দুর্ঘটনা আবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তীতে এমন ঘটনা এড়াতে বিমান চলাচল ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও কড়া নিয়ম জারি করা হবে।


