দ্বৈত ভোটার পরিচয়পত্র সহ বাংলাদেশি ট্রলার আটক, কাকদ্বীপে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

Spread the love

 রবীন্দ্রনাথ মন্ডল (দক্ষিণ ২৪ পরগনার ): কাকদ্বীপ মহকুমা উপকূলবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি ট্রলার আটক হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত–বাংলাদেশ জলসীমা সংলগ্ন এলাকায় দুই দেশের মৎস্যজীবীদের যোগাযোগ থাকলেও, এবার দ্বৈত পরিচয়পত্র উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া ট্রলারটিকে কোস্টগার্ড ফ্রেজারগঞ্জ-এ নিয়ে আসার পর তল্লাশি চালিয়ে এক মৎস্যজীবীর কাছ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়।

ধৃত ওই মৎস্যজীবীর নাম রবীন্দ্রনাথ দাস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুই দেশের নথি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কীভাবে তাঁর কাছে দুই দেশের পরিচয়পত্র এল, তিনি আদৌ কোন দেশের স্থায়ী বাসিন্দা এবং কবে কীভাবে সীমান্ত পারাপার করেছেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জাল নথি চক্র, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্কের যোগ আছে কি না, তাও যাচাই করছেন।

ট্রলারে থাকা অন্য মৎস্যজীবীদের দাবি, পূর্ব নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথকে ভারতের একটি ট্রলারে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। সেই কারণেই তাঁকে এই ট্রলারে তোলা হয়েছিল। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয় এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

ঘটনাটি সামনে আসতেই উপকূলবর্তী মৎস্যজীবী মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বহুদিন ধরেই এই অঞ্চলে সীমান্তবর্তী জলসীমায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। ফলে উপকূলীয় নজরদারি, মৎস্যজীবীদের পরিচয় যাচাই এবং নিয়মিত টহল বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনে দিয়েছে।

এই বিষয়ে সুন্দরবন পুলিশ জেলা-র পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।” ইতিমধ্যেই ধৃত ব্যক্তিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্ত এগোচ্ছে।

উপকূলবর্তী সংবেদনশীল এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা, মৎস্যজীবীদের নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই এবং ভারত–বাংলাদেশ যৌথ নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে কাকদ্বীপসহ গোটা উপকূল অঞ্চলের মানুষের।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *