বাংলার গরিব শ্রমিক, গলায় ভাষার ছাপ—আর তাতেই আজ তাঁরা ‘অপরাধী’? গুরগাঁওয়ের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে বাংলা-মাটি থেকে যাওয়া মানুষ!
গরিব। শ্রমিক। বাংলাভাষী। এই তিন পরিচয়ই কি আজ অপরাধ? গুরগাঁওয়ে কাজ করতে যাওয়া কোচবিহারের একদল শ্রমিককে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তুলে নিয়ে যাওয়া হল ডিটেনশন ক্যাম্পে। তাঁদের উপর অকথ্য অত্যাচারের ভিডিও ভাইরাল হতেই ফুঁসে উঠেছে বাংলা।
রাজনৈতিক নয়, এ লড়াই এখন মানুষের পরিচয়ের, ভাষার সম্মানের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, “এই ভাষা সন্ত্রাস আর কতদিন চলবে?” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—বাংলা আর মাথা নোয়াবে না।
এই ঘটনা শুধু হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের নয়। রাজস্থান, দিল্লি, ওড়িশা—একাধিক রাজ্যে একের পর এক বাংলাভাষী শ্রমিকের পরিচয় যাচাইয়ের নামে হেনস্থা চলছে। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে।
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় প্রথম এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে প্রতিবাদ জানান। এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে সরব হয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—এ রাজ্য চুপ করে বসে থাকবে না। বাংলার গরিব শ্রমিকদের হেনস্থা হলে গোটা বাংলা প্রতিবাদে সরব হবে।
এখন প্রশ্ন—একটি দেশের ভেতরে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া মানুষদের উপর এই ভাষাভিত্তিক বিভাজন ও অত্যাচার কি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? বাংলার শ্রমিকদের প্রতি এই অবমাননা কি শুধু ‘পরিচয় যাচাই’ না কি এর আড়ালে রয়েছে আরও গভীর ভাষা ও রাজনীতি?


