চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই বিস্ফোরক অভিযোগে কাঁপছে ভবানীপুর— পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর বিধানসভা কেন্দ্র। দাবি, একাধিক জীবিত ভোটারের নামের পাশে সোজাসুজি লিখে দেওয়া হয়েছে ‘ডিলিটেড’। অর্থাৎ তাঁরা যেন কাগজে-কলমে আর অস্তিত্বই রাখেন না! আবার উল্টো ছবিও সামনে এসেছে— মৃত ব্যক্তির নাম রয়ে গিয়েছে তালিকায়। সব মিলিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এসেছে ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৯৩ নম্বর পার্ট এলাকা থেকে। কুসুম দুবে ও দীপালি বর্মনের দাবি, সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ লেখা। পরিবারে অন্য সদস্যদের নাম থাকলেও তাঁদের দু’জনকে কার্যত ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, তালিকা হাতে পেয়েই তাঁরা স্তম্ভিত। শুধু তাঁরা নন, আশপাশের আরও বহু বাসিন্দার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি।
এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, কোথাও কোথাও শুনানির ডাক না পেয়েও নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘অ্যাজুডিকেশন’। অর্থাৎ শুনানি না করেই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন গাফিলতি কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাসের কথায়, সময় যত এগোচ্ছে, ততই নয়া অসঙ্গতি সামনে আসছে। তাঁর দাবি, জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানো থেকে শুরু করে একাধিক প্রশাসনিক ভুল রয়েছে এই তালিকায়। এতে সাধারণ মানুষের অযথা হয়রানি বাড়ছে বলেও অভিযোগ।
খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় থেকেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। এবার চূড়ান্ত তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রেই যদি এত অভিযোগ ওঠে, তবে গোটা প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, কারও নাম ভুলভাবে বাদ পড়ে থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আপত্তি জানানো যাবে।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই— এত ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় যদি জীবিত মানুষই ‘মুছে’ যান, তবে দায় নেবে কে?


