আজ ২ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। সামনে একের পর এক বড় ধর্মীয় উৎসব — ১৩ জুলাই উল্টোরথ, ১৭ জুলাই মহরম, সেই দিন থেকেই শুরু শ্রাবণ মাস এবং তার সঙ্গে শ্রাবণী মেলা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে বাড়তে থাকা জনসমাগম এবং আইনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই আগেভাগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আজকের বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য, পুরসভা, ট্রান্সপোর্ট ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলাগুলির পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কড়া বার্তা— কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সব ধর্মের উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়, সেই দিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে প্রশাসনকে।
মহরম উপলক্ষে রাজ্যের একাধিক জায়গায় বড় আকারে শোভাযাত্রা হয়। অন্যদিকে, শ্রাবণ মাসে তারাপীঠ, বাবুঘাট, বোলপুর, শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটি, রামপুরহাট-সহ বহু জায়গায় প্রচুর ভক্ত কাঁধে জল নিয়ে যান। সেই ভিড় সামলাতে পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, সিভিল ডিফেন্স, স্বেচ্ছাসেবকদের আগেভাগে মাঠে নামাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্রাবণের প্রথম সোমবার পড়ছে ২১ জুলাই, যা নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক প্রশাসন। এছাড়াও ২৮ জুলাই, ৪ ও ১১ আগস্টেও ব্যাপক জমায়েতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই উপলক্ষে হাইওয়েতে অতিরিক্ত ট্রাফিক কন্ট্রোল, পর্যাপ্ত পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সমস্ত দিক নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজকের এই বৈঠকের পর রাজ্যজুড়ে প্রতিটি জেলায় আলাদা কন্ট্রোল রুম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় নবান্ন থেকেও সরাসরি নজরদারি চালানো হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। শান্তি এবং মানবিকতাই আসল।”
এই প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে জেলাস্তরে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে, এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত জেলায় প্রস্তুতি রিপোর্ট জমা পড়বে বলে জানা গিয়েছে।


