বুধবার দুপুরে নৈহাটির আকাশে যেন উৎসবের রঙ। বড়মার মন্দিরের পথে ভিড় জমতে শুরু করেছিল সকাল থেকেই। কারণ একটাই—বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় জুটি দেব ও শুভশ্রীর বহু প্রতীক্ষিত পুনর্মিলন। রং মিলিয়ে সাজে ‘ধূমকেতু’র প্রচারে পাশাপাশি উপস্থিত হলেন টলিউডের এই দুই সুপারস্টার। তাঁদের দেখতে রাস্তায় আছড়ে পড়ল জনসমুদ্র, চারপাশে উচ্ছ্বাস, মোবাইল ক্যামেরার ঝলক আর স্লোগানের গর্জন।
মন্দিরে প্রবেশের পর শুরু হল সিনেমার মতো একেকটি দৃশ্য। লাল শাড়ি ও সিঁদুরে রাঙানো সিঁথিতে শুভশ্রী, আর লাল পাঞ্জাবিতে দেব—দু’জনেই করজোড়ে বড়মার পুজোয় মগ্ন। কখনও কানে কানে ফিসফাস, কখনও বা মৃদু হাসি, আবার কখনও একে অপরের দিকে বাড়িয়ে দিলেন ভরসার হাত। ভিড় ঠেলে শুভশ্রীকে আগলে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল ভক্তমহল। মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হাজারো অনুরাগীর দিকে হাত নাড়তে নাড়তে দু’জনে একে অপরের হাত ধরে চেয়ারের উপর দাঁড়ালেন—সেই মুহূর্তে গর্জে উঠল ভক্তদের কণ্ঠে স্লোগান, “দেব–শুভশ্রী বিউটিফুল, হলে হলে হাউসফুল।”
শুধু ভক্তরা নয়, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেও এই মুহূর্তে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে দেব–শুভশ্রীর বন্ধুত্বের নতুন সমীকরণ। পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলা সিনেমার স্বার্থে তাঁরা আবার একসঙ্গে কাজ করলেন, যা দেখে অনেকেই বলছেন, “বাংলার শেষ সুপারস্টার জুটি ফিরে এসেছে।”

নৈহাটির বড়মার দরবারে এই পুনর্মিলনের আবেগ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বাংলায়। ইতিমধ্যেই ‘ধূমকেতু’কে ঘিরে বক্স অফিসে রেকর্ড ব্যবসার পূর্বাভাস দিচ্ছেন সিনেমা হল মালিকরা। এখন শুধু অপেক্ষা ১৪ আগস্টের—যেদিন প্রেক্ষাগৃহে ফিরবে দেব–শুভশ্রীর জাদু, আর ভক্তদের অ্যাড্রিনালিন রাশ ছুঁয়ে ফেলবে নতুন উচ্চতা।


