সোমবার দুপুরে আচমকাই ধর্মতলার মেয়ো রোডের একাংশে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেসের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ খুলে দেয় সেনাবাহিনী। ওই এলাকা সেনা ও রেলের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় সেনার দাবি— নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চ ফেলে রাখা হয়েছিল। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন, সেনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মমতার বক্তব্য, “নরেন্দ্র মোদির জায়গায় আন্দোলনের মঞ্চ করব না। বিজেপি বাইরে থেকে এসে প্রোগ্রাম করলে আমরা জায়গা দিই সৌজন্যের খাতিরে। কিন্তু আমাকে অনুমতি নিতে হবে মোদিবাবুর কাছে, এটা হতে পারে না। আমি মানুষের অনুমতি নিয়ে কাজ করি।” মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, সেনার কোনও দোষ নেই, তাঁরা দেশের গর্ব। তবে বিজেপির চাপে সেনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, “আমি যখন এলাম তখন সেনার লোকজন পালিয়ে গেল।”
ঘটনাস্থলেই তিনি ঘোষণা করেন, রানি রাসমণি রোডে নতুন মঞ্চ তৈরি করা হবে। পুজোর ভিড়ের সময় সাধারণ মানুষের অসুবিধার দিকও খেয়াল রাখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে কটাক্ষ করেন, “এটা আপনাদের অনৈতিক আর অগণতান্ত্রিক কাজ। যেখানে আমি পাঁচ মিনিট দূরে বসে আছি, অথচ কাউকে কিছু না জানিয়ে মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হল।”
অন্যদিকে সেনার তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়— প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী, মেয়ো রোডে তিন দিনের বেশি সময় ধরে কোনও অনুষ্ঠান করা যায় না। দু’দিনের জন্য অনুমতি দেওয়া হলেও প্রায় এক মাস ধরে মঞ্চ রেখে দেওয়া হয়েছিল। আয়োজকদের একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই কলকাতা পুলিশকে অবগত করেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মঞ্চ সরানো হয়েছে।
ফলে সেনা ও তৃণমূলের ব্যাখ্যা পরস্পরবিরোধী হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন করে চড়া হয়েছে রাজনৈতিক তাপমাত্রা। মঞ্চ ভাঙাকে ঘিরে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে মমতার আক্রমণ যে আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।


