বাংলা ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ঘিরে ফের রাজনীতির মঞ্চে বিতর্ক। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে এবার বিজেপির ফায়ারব্র্যান্ড নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরে এক রাজনৈতিক সভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন,“সব বলব, কিন্তু ‘জয় বাংলা’ বলব না।”
এই মন্তব্যেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জয় বাংলা’ আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক স্লোগান। তিনি এর সঙ্গে বাংলা বা বাঙালির আত্মপরিচয়ের কোনও সম্পর্ক দেখেন না। তাঁর কথায়,“এই বাংলা মানে মমতার বাংলা নয়। আমরা প্রকৃত বাংলাকে বাঁচাতে চাই, যেখানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর তোলাবাজির কোনও জায়গা নেই।”
তাঁর এমন মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছে,“যারা বাংলা মাটির গন্ধ বোঝে না, তারা ‘জয় বাংলা’ বলবেই না। দিলীপ ঘোষরা বাইরে থেকে এসেছেন, বাংলার হৃদয়কে তাঁরা বুঝতেই পারবেন না।”
তৃণমূলের তরফে আরও বলা হয়, ‘জয় বাংলা’ শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি বাংলার আত্মমর্যাদার প্রতীক। এটা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের প্রতিধ্বনি।
অন্যদিকে বিজেপি সূত্রের মতে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি আসলে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই কারণে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এর ব্যবহার নিয়ে আপত্তি রয়েছে বহু বিজেপি নেতার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই মন্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবেই দিলীপ ঘোষ দিয়েছেন রাজ্যে ভোটের আগে বিভাজনমূলক ইস্যু তৈরি করতে। ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় আবেগ—এসবকেই সামনে এনে ভোট কৌশল সাজানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
এতদিন ‘জয় শ্রীরাম’ বনাম ‘জয় বাংলা’র দ্বন্দ্ব রাজনীতির অলিখিত অস্ত্র ছিল। এবার প্রকাশ্যেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্য সেই আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।


