মেদিনীপুরের ডেমুরিয়া—যে এলাকা রাজ্য রাজনীতিতে ‘শুভেন্দু অধিকারীর গড়’ বলেই পরিচিত। আর সেখানেই আচমকা উপস্থিতি দিলীপ ঘোষের। তবে দলীয় কর্মসূচি নয়, দেখা গেল একেবারে ভিন্ন ছবি। স্থানীয় রথমেলায় হাজির হয়ে জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা তমালতরু দাস মহাপাত্রের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেল বিজেপির এই কেন্দ্রীয় নেতাকে। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ছবি ও ভিডিও, আর তার পরেই রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয়েছে কানাঘুষো।
দু’জনকে একসঙ্গে বসে খেতে দেখা গেছে। হাতে প্রসাদ, মুখে হাসি, আড্ডায় পুরোনো দিনের স্মৃতি। চারপাশে উৎসবের আবহ, আর মাঝখানে দুই বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন সদ্ভাব—নিশ্চয়ই চোখে পড়ার মতো দৃশ্য। যাঁরা একে অপরকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করতে কসুর করেন না, তাঁদের এমন কাছাকাছি আসা স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন তুলেছে।
বিজেপির অন্দরে এই সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। তৃণমূলের তরফে যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি, তবে জেলা রাজনীতিতে চাপা গুঞ্জন—ভবিষ্যতের কোনও সম্ভাব্য সমঝোতার বার্তা কি দিচ্ছেন দিলীপ ঘোষ?
তবে দিলীপ ঘোষ এই সফরকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, ‘‘পুরোনো সম্পর্ক ছিল। রথ উপলক্ষে গেছি, কোনও রাজনীতি নেই।’’
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—রাজনীতিতে কি আদৌ কিছু ‘ব্যক্তিগত’ থাকে? বিশেষ করে যখন ঘটনাস্থল শুভেন্দুর ঘরের উঠোন, তখন এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


