কলকাতার মেট্রো পরিষেবায় যুক্ত হতে চলেছে আধুনিক প্রযুক্তির এক নতুন অধ্যায়। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরে শুরু হচ্ছে চালকবিহীন মেট্রো বা ‘অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন’ (ATO) ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক যাত্রা। আগামী ৪ আগস্ট থেকে হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পুরো রুটে এই চালকবিহীন ট্রেনের মহড়া শুরু হবে।
এই ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর দেশের একমাত্র মেট্রো পথ, যা গঙ্গার তল দিয়ে সংযুক্ত করেছে দুই শহর হাওড়া ও কলকাতাকে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যাত্রীবোঝাই নয়, বরং খালি রেকই রাতের সময় চালানো হবে, যাতে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়।
টানা দুই সপ্তাহ ধরে এই মহড়া চলবে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ১৪তম দিনে পুরো সিস্টেমের মূল্যায়ন করে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। তার পরেই রেলবোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কবে থেকে যাত্রীবোঝাই রেকে ATO চালু হবে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, গত ২৯ এপ্রিল কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (CRS) গোটা রুটে বাণিজ্যিক যাত্রার অনুমোদন দিলেও ATO ব্যবস্থার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রেখেছিলেন। সেই শর্ত মেনেই আগস্টের শুরুতে মহড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন অনুমোদন মিললেও কেন এখনও পুরো রুটে যাত্রী পরিষেবা শুরু হয়নি? বর্ষার জলাবদ্ধতা আর যানজটে বিপর্যস্ত কলকাতা-হাওড়াবাসীর কাছে এই রুট খুলে যাওয়া অনেকটাই স্বস্তির হাওয়া নিয়ে আসত।
মেট্রো রেলের এক শীর্ষ কর্তার দাবি, পুরো রুট চালু না হওয়ায় রেল প্রতি মাসে প্রায় ৯ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ছে। তবুও যাত্রী নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছে রেল কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখযোগ্য, এই ATO ব্যবস্থায় চালকের প্রয়োজন না থাকলেও, শুরুর পর্যায়ে যাত্রীদের মনোবল বাড়াতে প্রতিটি ট্রেনে একজন চালক থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ হবে সম্পূর্ণভাবে সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থিত সেন্ট্রাল কন্ট্রোল থেকে।


