আফগানিস্তানের কিছু মিডিয়া দাবি করেছে, পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলেই রহস্যজনকভাবে খুন হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খান। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে এই খবর। তবে পাকিস্তান প্রশাসন এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং এটিকে “ভুয়া প্রচার” বলে জানিয়েছে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের সামনে ইমরানের সমর্থকের ঢল নামে। তাঁর বোনেরাও সেখানে পৌঁছে দাবি করেন, বহুদিন ধরে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা–সহ নিরাপত্তা সম্পর্কে পরিবারকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। ইমরানের এক বোন অভিযোগ করেছেন, জেলের বাইরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করলে পুলিশ তাঁদের ধাক্কা দেয় এবং অপমান করে।
এদিকে প্রশাসনের দাবি, ইমরান খান পুরোপুরি নিরাপদ আছেন এবং আফগান সোর্স থেকে ছড়ানো এই খবরের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, “ইমরান খান জীবিত এবং নিরাপদ অবস্থায় আছেন। সন্ত্রাসবাদ ও ভুয়া প্রচার রুখতেই এই গুজব ছড়ানো হয়েছে।”
তবে প্রশ্ন আরও ঘনাচ্ছে—যদি তিনি জীবিত থাকেন, তবে পরিবার, আইনজীবী বা দলের কাউকে কেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না? কেন গত কয়েকদিন ধরে তাঁর কোনও ভিডিও বা জেল থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা আসছে না?
ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় বিচার চলছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁর ওপর কারাগারে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিল পিটিআই। কিছু সূত্র দাবি করছে, তাঁকে ‘ডেথ সেল’-এ রাখা হয়েছে—যদিও এ দাবিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অস্বীকৃত।
এই ব্যাপক রহস্য ও তথ্য-অন্ধকারে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইমরান সমর্থকরা এখন একটাই দাবি তুলছেন—“প্রমাণ দেখাও—ইমরান খান জীবিত নাকি নিহত?”
পরিস্থিতির দিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলেরও।


