দেশজুড়ে চলতে থাকা ইন্ডিগোর অচলাবস্থার মধ্যে সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স-সহ আট শীর্ষ আধিকারিককে সরাসরি sk blame করলেন এক অজ্ঞাতনামা পাইলট। সোশালে ভাইরাল হয়ে গেছে তাঁর খোলা চিঠি, যেখানে তিনি দাবি করেছেন—ঔদ্ধত্য, অপমান এবং বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা অস্বাস্থ্যকর কর্মসংস্কৃতিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
চিঠিতে তিনি লেখেন, তিনি কোনও মুখপাত্র নন—শুধু একজন সাধারণ কর্মী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাত জেগে, কঠিন রস্টার সামলে, অপমান সহ্য করে কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ সমস্যা আর সংস্থার গণ্ডিতে নেই, তা এখন দেশজুড়ে প্রভাব ফেলছে। পাঁচ দিন ধরে চলা চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলায় ভোগান্তির শিকার লক্ষাধিক যাত্রী।
২০০৬ সালে ছোট পরিষেবা হিসেবে যাত্রা শুরুর পরে ইন্ডিগোকে দাঁড় করাতে যে গর্ব ছিল, তা খুব দ্রুতই শীর্ষকর্তাদের ‘ঔদ্ধত্য’-তে পরিণত হয়েছে—এমনই দাবি তাঁর। চিঠিতে তিনি লেখেন, আর্থিক উন্নতির পরেই সংস্থায় শুরু হয় লোভ, তৈরি হয় এমন বিশ্বাস যে ইন্ডিগোর পতন সম্ভব নয়। অযোগ্য কর্মীদের উচ্চপদে বসানো, কর্মীদের ওপর অমানবিক চাপ, অপমান, ভয় দেখানো—সবই নিত্যদিনের ঘটনা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সমস্যা জানাতে গেলে ছুটি বাতিল করা বা রাতের শিফট বাড়িয়ে দেওয়ার নজির ছিল ‘স্বাভাবিক’।
চিঠিতে নামজুড়ে দিয়েছেন সিইও-সহ আট আধিকারিকের। তালিকায় রয়েছেন—পিটার এলবার্স, জেসন হার্টার, অদিতি কুমারী, তাপস দে, রাহুল পাতিল, ইসিডোর পোরকেরাস, অসীম মিত্র এবং অক্ষয় মোহন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের নয়া শ্রম আইন—যেখানে গ্রাউন্ড স্টাফদের ন্যূনতম মজুরি, পাইলটদের অতিরিক্ত কাজের চাপ রোধের মতো নিয়ম—সংস্থাকে ‘চাপে’ ফেলে, আর সেই চাপই আজকের অচলাবস্থার কারণ।
এদিকে কেন্দ্রও কঠোর অবস্থানে। ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার দায়ে ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবার্সকে নোটিস পাঠিয়েছে ডিজিসিএ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে—এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে?


