মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির আবহে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম প্রধান রুটে এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতিতেও।
ভারত সরাসরি ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি না করলেও দেশের মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি জ্বালানি বিদেশ নির্ভর। সেই আমদানির প্রায় অর্ধেকই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। উপসাগরীয় দেশ যেমন ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল এই পথেই ভারতে পৌঁছায়। পাশাপাশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশও একই রুটে আমদানি করা হয়। ফলে হরমুজে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে সরবরাহ চক্রে বড় ধাক্কার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি সূত্রের দাবি, আপাতত দেশে ১০ থেকে ১৫ দিনের অশোধিত তেলের মজুত রয়েছে এবং প্রায় এক সপ্তাহের বেশি শোধিত জ্বালানির ভান্ডারও আছে। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক সঙ্কটের সম্ভাবনা কম। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়বে দামে। ইতিমধ্যেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি জটিল হলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজি ও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাড়তে পারে পরিবহণ ব্যয়, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপরেও।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র বিকল্প উৎসের দিকে নজর রাখছে। প্রয়োজনে রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়ানো, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা এবং ব্রাজিল-সহ অন্যান্য উৎপাদক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কৌশলগত তেল মজুত ভাণ্ডার ব্যবহার করার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ কতদিন বন্ধ থাকে তার উপরই নির্ভর করবে ভারতের উপর প্রকৃত প্রভাব। স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে তা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


