মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-এর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির পাশাপাশি জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, আর তারই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশে। এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্ন উঠছে—ভারতে কি আবার লকডাউনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যেমন লকডাউন—তার সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে পরোক্ষভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির দামে। তেলের দাম বাড়লে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির খরচ বাড়ে, যার ফলে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়।
তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ লকডাউন জারি করা অত্যন্ত কঠিন এবং সম্ভাবনাও কম। করোনা পরবর্তী সময়ে দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে, তাই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকার একাধিক বিকল্প পথ বিবেচনা করে।
হ্যাঁ, পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে—যেমন জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশিকা, পরিবহণে সীমিত বিধিনিষেধ বা সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন। কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের সমতুল্য নয়।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব ও ভুয়ো তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে। প্রশাসনের তরফে পরিষ্কার বার্তা—লকডাউন নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানির বাজারে পড়লেও, ভারতে লকডাউনের আশঙ্কা এই মুহূর্তে বাস্তব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


