বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার বাস্তব রূপ পেল অজয় নদের উপর স্থায়ী সেতুর স্বপ্ন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন ‘জয়দেব সেতু’র। বীরভূম জেলার জয়দেব ও পশ্চিম বর্ধমানের বিদবিহারকে যুক্ত করেছে এই নয়া সেতু।
এই সেতু নির্মাণের ফলে দুর্গাপুর থেকে বোলপুর যাতায়াতের পথ হবে আরও মসৃণ ও সময়-সাশ্রয়ী। এতদিন এই রুটে যাতায়াতে স্থানীয় মানুষদের নানান অসুবিধার মুখোমুখি হতে হত— বর্ষাকালে নদী পারাপারে বিশেষ করে চরম ভোগান্তি হতো। সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই শুরু হয় এই প্রকল্প।
প্রকল্প খরচ ও নির্মাণ
এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৩৮ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গ পূর্ত দপ্তরের অধীনেই এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিতে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ও গঠন এমনভাবে পরিকল্পিত, যাতে প্রবল বর্ষাতেও নদীর জলধারার উপর কোনও প্রভাব না পড়ে। নির্মাণ মানেও যথেষ্ট উন্নত, যাতে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হয়।
সেতুর তাৎপর্য
এই জয়দেব সেতু শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নয়— বরং এটি এক বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিশা দেখাবে বলে মত প্রশাসনিক মহলের। এই অঞ্চলে পর্যটন, কৃষি, ছোট ব্যবসা, এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বীরভূমের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বোলপুর-শান্তিনিকেতনের সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে এই সেতু।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
সেতু উদ্বোধনের সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতু। আমাদের সরকার মানুষের জন্য কাজ করে। এই সেতু নতুন কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও পর্যটনের সুযোগ তৈরি করবে।” তিনি আরও জানান, আগামী দিনে আরও একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এতদিন তাঁদের স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল বা বাজারে যেতে নদী পার হওয়াটা ছিল বড় বাধা। সেতু চালু হওয়ার পরে এখন তাঁরা আশার আলো দেখছেন। অনেকেই বলছেন, “আমরা এখন সত্যিই বুঝতে পারছি উন্নয়ন কাকে বলে।”


