দুই বাংলার সম্পর্কের সমীকরণে আবারও নরম হাওয়া। রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি কোন পথে এগোবে তা নিয়ে জল্পনা ছিলই। সেই আবহে সৌজন্যের সেতু গড়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি পাঠালেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও ফুল। উপহার পৌঁছেছে ঢাকার গুলশনে বিএনপির কার্যালয়ে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা।
বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠে এসেছেন তারেক রহমান। ফল ঘোষণার পর থেকেই দুই বাংলার রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল—নতুন সরকারে কেমন হবে সম্পর্কের রসায়ন? মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ সেই প্রশ্নের ইতিবাচক ইঙ্গিত বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এর আগে দীর্ঘদিন শেখ হাসিনার আমলে ঢাকা-কলকাতা সম্পর্কে ব্যক্তিগত উষ্ণতা ছিল স্পষ্ট। কিন্তু অন্তর্বর্তী সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্কের আবহ কিছুটা শীতল হয়। এখন নতুন নেতৃত্বের সূচনালগ্নে আবারও সাংস্কৃতিক ও আবেগের জায়গা থেকে বার্তা দেওয়া হল—রাজনীতির বাইরে থেকেও সম্পর্কের জায়গা অটুট।
শুধু সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা নয়, ফোনালাপের মাধ্যমেও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রোটোকল নয়—বরং কৌশলগত বার্তা। সীমান্ত, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও জনযোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
দুই বাংলার সম্পর্কের ইতিহাসে ‘মিষ্টি কূটনীতি’ নতুন নয়। আম, ইলিশ, মিষ্টি—এইসব সাংস্কৃতিক বিনিময় বহুবার কূটনৈতিক বার্তা বহন করেছে। নতুন অধ্যায়ের শুরুতে সেই ঐতিহ্যই যেন আবার সামনে এল। এখন নজর, এই সৌজন্যের জবাবে ঢাকা কতটা দ্রুত ও কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।
উপহারেই উষ্ণ বার্তা, ঢাকা-কলকাতা সম্পর্কে নতুন সুর


