গভীর বিষাদে ঢেকে গেছে গোটা দেশ। এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১-এর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু প্রাণ হারিয়েছেন। তবে সেই মৃত্যুর মাঝে যেন অলৌকিকভাবে নতুন করে জন্ম নিলেন এক ব্যক্তি — বিমানের একমাত্র জীবিত যাত্রী, ৪০ বছর বয়সী বিশ্বাশ কুমার রমেশ।
দুর্ঘটনার ঠিক পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় নিজের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি। সেই মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, “আমি কীভাবে বেঁচে আছি, জানি না। সবাই কোথায়, কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।” পরিবারের সদস্যরা তখনও ভাবতেই পারেননি তিনি দুর্ঘটনা থেকে কোনওভাবে বেঁচে ফিরেছেন। বিশ্বাশের পাশে বসে থাকা তাঁর ভাই অজয় কুমার ছিলেন না—তাঁর মৃত্যুর খবরেই আরও ভেঙে পড়েন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন দুপুর ১:৩৮ মিনিটে, আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেকঅফ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। উড়ানটি গন্তব্যে ছিল লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর। দুর্ঘটনার পরই জানা যায়, বিমানটি রাজ্যের বিখ্যাত বিএজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের ওপর আছড়ে পড়ে এবং সেখানে অন্তত ২৮ জন মাটিতে থাকা মানুষও প্রাণ হারান।
বিমানের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কীভাবে বেঁচে ছিলেন বিশ্বাশ? হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, তিনি হয়তো জানালার পাশে বসে থাকায় এবং শেষ মুহূর্তে দরজার দিক দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারার কারণেই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অবস্থা স্থিতিশীল।
এই দুর্ঘটনার তদন্তে নেমেছে ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। পাশাপাশি বোয়িং ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও তদন্তে সহায়তা করছে। বিমানের ব্ল্যাক বক্স ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে এবং তাতে কী তথ্য রয়েছে, তার দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা দেশ।
এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। টাটা গ্রুপ, যারা বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়ার মালিক, তাঁরা ক্ষতিপূরণ ও সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।
বিশ্বাশ কুমার রমেশ এখন শুধু একটি নাম নয়—তিনি একটি অলৌকিক বেঁচে ফেরার গল্প, যেটা ভারতের বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


