টানা প্রায় ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে। অথচ জীবনযাপন একেবারে সাধারণ। টালির চালের বাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি, পরনে সাদামাটা সুতির শাড়ি—এইভাবেই নিজেকে ধরে রেখেছেন অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার কালীঘাট থেকে মিছিল করে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছে ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। সঙ্গে জমা দেন হলফনামা, আর সেখানেই উঠে আসে তাঁর সম্পত্তির খুঁটিনাটি হিসাব।
হলফনামা অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০৯ টাকা ৭১ পয়সা। তাঁর নামে কোনও অস্থাবর সম্পত্তি নেই, নেই কোনও ঋণও।
আয়ের হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ২৩ লক্ষ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা। তার আগের বছর ২০ লক্ষ ৭২ হাজার ৭৪০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৩৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৪১০ টাকা এবং ২০২০-২১ সালে ১৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৪৫ টাকা।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর হাতে নগদ ছিল ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা। ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১২ লক্ষ ৩৬ হাজার ২০৯ টাকা ৭১ পয়সা। নির্বাচনী খরচের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে ব্যাঙ্কে মোট ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০৯ টাকা ৭১ পয়সা।
গয়না বলতে রয়েছে মাত্র ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম সোনা, যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। নেই কোনও গাড়ি, নেই জমি বা বাড়িও তাঁর নামে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তিনি ৪০ হাজার ৬০০ টাকা টিডিএস ফেরত পেয়েছেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও এমন সাদামাটা জীবন—এই বৈপরীত্যই আবারও সামনে আনল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। ভবানীপুরের লড়াইয়ে নামলেও, তাঁর জীবনযাপনই যেন সবচেয়ে বড় বার্তা।


