MUKUL ROY: আজ মমতার দুঃখের দিন

Spread the love

MUKUL ROY: আজ মমতার দুঃখের দিন

 

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশিষ্টজনের মৃত্যু হলে সকলেই শোকজ্ঞাপন করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু কতটা মন খারাপ হয় সেটা সত্যিই জানা যায় না। রবিবার গভীর রাতে মারা যান মুকুল রায়। অনেকেই শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন। তাঁদের একজনের কথা বিশেষ করে উল্লেখ না করলেই নয়, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুকুল রায়ের প্রয়াণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ এর সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি।” বিশিষ্ট মহলের একাংশ, যাঁরা মুকুল এবং মমতার রাজনৈতিক লড়াই দেখেছেন, তাঁদের অনেকেই বলছেন, আজ মমতার মন খারাপ। আজ সত্যিই তিনি মর্মাহত। কারণ যে মানুষটি মারা গেছেন, তিনি মমতাকে মমতা তৈরি করার অন্যতম কারিগর। লড়াইটা যুব কংগ্রেস থেকে।

কংগ্রেসের হাত ধরে ছাত্র রাজনীতি থেকে রাজনীতির মূল স্রোতে উঠে আসেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস ছেড়ে প্রতিষ্ঠা করেন তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া থেকে রাজধানী রাজনীতি। রেলমন্ত্রী থেকে জাহাজ মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেছেন মুকুল। মমতার ডান হাত বলে পরিচিত এই মুকুল রায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার হাত ধরেই ত্রিপুরা এবং অসমে লড়েছিল তৃণমূল। তবে ফল ভালো না হওয়ায় তৃণমূলের একাংশ তাঁকে দোষারোপ করে। ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। অনেকেই বলেন, এটা ছিল মুকুলের জীবনের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত। ২০২১ সালে বিজেপির স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর থেকেই কোনঠাসা হতে শুরু করেন মুকুল। ফেরেন তৃণমূলে। মমতা নিজে ফিরিয়েছিলেন। কিন্তু, বিজেপির পক্ষ থেকে নাকি তাঁকে মানসিক চাপ দেওয়া হতো সারদা এবং নারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে। এসবের মাঝেই স্ত্রী বিয়োগ হওয়ার পরে মুকুল আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুর দাবি, প্রায় ৬০০ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মুকুল। রবিবার রাতে সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

অনেকেই বলছেন, আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে অনেকটা একা মনে করবেন। হতেই পারে সক্রিয় রাজনীতিতে বেশ অনেকটা সময় মুকুল ছিলেন না, কিন্তু না থেকেও বেঁচে তো ছিলেন। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো খুব কাছের কাউকে হারালেন। পুরোনো দিনের ডান হাতটা হারালেন।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *