বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের হাহাকারের মাঝেই উঠে এলো এক মানবিক ছবি। রাজনীতি ভুলে আহত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নাগরাকাটায় ত্রাণ দিতে গিয়ে জনতার ক্ষোভের মুখে রক্তাক্ত হন মালদহ উত্তরের সাংসদ। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। শয্যাশায়ী সাংসদের পাশে গিয়ে খোঁজ নেন তাঁর শারীরিক অবস্থার। পাশে বসে কথা বলেন, সান্ত্বনা দেন তাঁর পরিবারকেও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি সাংসদের অবস্থা স্থিতিশীল। উনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, চিকিৎসকরা ভালোভাবে দেখছেন। আমি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি, সবরকম সাহায্য রাজ্য সরকার করবে।”
তাঁর কণ্ঠে তখন রাজনৈতিক কষাঘাতের বদলে স্পষ্ট মানবিক উদ্বেগ— একজন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংসদের চোখের নীচের হাড়ে চোট লেগেছে, প্রয়োজন হতে পারে অস্ত্রোপচারের। আপাতত তিনি আইসিইউতে রয়েছেন। শুধু খগেন মুর্মু নন, সেই দিন হামলার মুখে পড়েছিলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষও। ঘটনার পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে দুই শিবিরে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী ফের শান্তির বার্তা দিয়েছেন— “আমি চাই না কোনও অশান্তি হোক। কিন্তু কেউ যদি প্লাবন এলাকায় ৩০–৪০টি গাড়ি নিয়ে যায়, স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের ক্ষোভ হয়। সবাইকে সংযত থাকতে হবে।”
সোমবার রাতেই সোশাল মিডিয়ায় ঘটনার নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন,
“দুর্ভাগ্যজনক ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক, যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যথাযথ তদন্তের আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে রাজনীতির মঞ্চে তুলতে চাইছেন, যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সঙ্গে লড়ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “স্থানীয় প্রশাসন যখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ব্যস্ত, তখন বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় বিশাল কনভয় নিয়ে দুর্গত এলাকায় গিয়েছেন, কোনও পূর্ব অনুমতি ছাড়াই। এর দায় রাজ্য প্রশাসনের নয়।”
একদিকে রাজনীতির ঝড়, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাসপাতাল সফর যেন এক ভিন্ন বার্তা— “মানুষ আগে, রাজনীতি পরে।”


