‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পরিষেবা দিতে আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না দেশের বহু বেসরকারি হাসপাতাল। কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের নাগরিকদের জন্য বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
হাসপাতালগুলোর অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত প্যাকেজের হার এতটাই কম যে, তাতে প্রকৃত চিকিৎসা খরচ তোলা সম্ভব নয়। ফলে প্রতিবার চিকিৎসা দিতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে।
তার উপরে সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে বিল পরিশোধে সরকারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে। বহু হাসপাতাল দাবি করছে, চিকিৎসার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিল জমা দেওয়ার পরেও মাসের পর মাস কেটে যায় অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায়। এতে হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যকলাপ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় কর্মীদের বেতন দেওয়া বা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছে।
আরও একটি বড় সমস্যার দিক তুলে ধরেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তা হলো প্রশাসনিক জটিলতা। রোগীর চিকিৎসার অনুমোদন পাওয়া থেকে শুরু করে বিল ক্লিয়ার করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নানা রকম কাগজপত্রের ঝামেলা, অনলাইন পোর্টালের সীমাবদ্ধতা ও বারবার তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন—সব মিলিয়ে অতিরিক্ত সময় ও জনবল ব্যয় হচ্ছে।
এই সমস্ত কারণে একে একে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নিচ্ছে বহু নামী বেসরকারি হাসপাতাল। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ দেশের দরিদ্র অংশের জন্য উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা—তা এখন ধাক্কা খাচ্ছে বাস্তবতার মুখে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। রোগীরাও যেমন আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন, তেমনই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


