ছাব্বিশের আগে বাংলাকে ঘিরে উন্নয়ন বার্তা আরও একবার স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার সিঙ্গুরের মাটি থেকেই একযোগে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করে তিনি জানালেন, পূর্ব ভারতের উন্নয়ন ছাড়া ‘বিকশিত ভারত’ অসম্পূর্ণ। প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে রেল, জলপথ ও পর্যটন—সব দিক থেকেই বাংলাকে নতুন দিশা দেওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
সিঙ্গুর থেকে সূচনা হয় তিনটি অমৃত ভারত ট্রেনের—কলকাতা-বারাণসী, সাঁতরাগাছি-তাম্বরম এবং হাওড়া-আনন্দবিহার রুটে। পাশাপাশি কলকাতায় ইলেকট্রিক ক্যাটামারান পরিষেবা এবং বলাগড় বন্দরের গেট সিস্টেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। জয়রামবাটি-ময়নাপুর রেললাইনের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সূত্র ধরেই মোদি বলেন, তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীর সঙ্গে এবার সরাসরি যুক্ত হল বাংলা।
সরকারি মঞ্চ থেকে মোদির বক্তব্যে বারবার উঠে আসে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, জলপথ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে বাংলায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। যুবসমাজ উপকৃত হবে। পাশাপাশি তিনি চান, মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদনে বাংলা দেশের নেতৃত্ব দিক। অর্থাৎ উন্নয়ন ও চাকরি—এই দুই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার কাজ করছে, তা স্পষ্ট করে দেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে সরকারি অনুষ্ঠানের পর সিঙ্গুরের রাজনৈতিক সভায় মোদির বক্তব্য আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, বাংলায় শিল্প আসতে পারে, কিন্তু বর্তমান শাসনে তা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও ‘মাফিয়া রাজ’-এর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকার সরলেই রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলেই শিল্পায়নের পথ খুলবে—এই বার্তাই দেন তিনি।
সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে শিল্প ফেরার কথা বললেও, বহু চর্চিত টাটা প্রসঙ্গে এদিন প্রধানমন্ত্রী একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। ১৮ বছর আগে যে সিঙ্গুর শিল্প বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেই সিঙ্গুর থেকেই এবার উন্নয়নের ঘোষণা—এতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, মোদির ‘মিশন বাংলা’য় কি আদৌ ফিরবে শিল্পের সুদিন?


