নন্দীগ্রাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হৃদয়ের খুব কাছের একটি অধ্যায়। ২০০৭ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনা আজও ভুলতে পারেননি তিনি। সেই ঘটনাকে বারবার ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার নন্দীগ্রাম দিবসে শহিদদের স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মমতা। তিনি লেখেন, “নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই-সহ সমগ্র বিশ্বের সকল শহিদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং অন্তরের গভীর প্রণতি।”
২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাই পরবর্তীতে বাংলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।
সেই সময় তৎকালীন বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যার জেরে ২০১১ সালে বাংলায় সরকার পরিবর্তন হয় এবং ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।
গত প্রায় দুই দশকে রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রপটও বদলে গিয়েছে। সেই সময়ের শাসক দল সিপিএম আজ কার্যত রাজ্যের রাজনীতিতে প্রান্তিক। অন্যদিকে একসময় ‘রেডারে’ না থাকা বিজেপি এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল।
২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নন্দীগ্রাম দিবসের পালনের রাজনীতিতেও বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। তবু প্রতি বছর ১৪ মার্চ রাজ্যজুড়ে তৃণমূল-সহ বিভিন্ন সংগঠন নন্দীগ্রাম দিবস পালন করে শহিদদের স্মরণ করে।



