“নির্বাসনে থাকা”— এই একটি বিষয়কেই সবচেয়ে বেশি ভয় ও ঘৃণা করতেন সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজির সেই কথাই নতুন করে সামনে এনে তাঁর জন্মদিবসে আবার একবার মানবিক আবেদন জানালেন কন্যা অনিতা বসু পাফ। আবেদন একটাই— বাবার চিতাভস্ম যেন অবশেষে ফিরে আসে তাঁর নিজের দেশে।
জার্মানি থেকে লেখা বার্তায় অনিতা স্মরণ করিয়েছেন, স্বাধীনতার ৭৮ বছর কেটে গেলেও আজও নেতাজির পার্থিব অবশেষ ভারতভূমিতে ফেরানো যায়নি। তাঁর মতে, যাঁর জীবন জুড়ে ছিল স্বাধীনতার লড়াই, সেই নেতাজির চিতাভস্ম এখনও বিদেশের মাটিতে পড়ে থাকা মানে এক ধরনের নীরব নির্বাসন।
অনিতা জানান, টোকিওতে থাকা ভারতীয়দের অনুরোধে একসময় জাপানের রেনকোজি বৌদ্ধ মন্দিরে ‘কয়েক মাসের জন্য’ নেতাজির চিতাভস্ম রাখা হয়েছিল। সেই অস্থায়ী সিদ্ধান্তই আজ আট দশকের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়ে গেছে। তাঁর প্রশ্ন— আর কত দিন এভাবে চলবে?
এই দাবি নতুন নয়। আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একই অনুরোধ জানিয়েছিলেন অনিতা। তাঁর বক্তব্য, নরসিংহ রাও সরকারের আমলে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, সেটার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার দায়িত্ব এখন বর্তমান সরকারের হাতেই। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর আর্জি,
“নেতাজিকে আর নির্বাসনে রাখবেন না। ওঁকে দেশে ফিরতে দিন।”
নেতাজির মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক আজও পুরোপুরি থামেনি। বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইহোকুতে (বর্তমান তাইপেই) বিমান দুর্ঘটনাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর চিতাভস্ম রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত।
অনিতা অবশ্য জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধোঁয়াশা থাকলেও এখন অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্ট ও বিভিন্ন নথি বিমান দুর্ঘটনাকেই সমর্থন করছে। তাই এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নেতাজির শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখানোই সময়ের দাবি। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিজের নমুনা দিতেও প্রস্তুত তিনি।
নেতাজির জন্মদিবসে এই আবেদন শুধু একটি পরিবারের আকুতি নয়— এটা ইতিহাসের কাছে, দেশের কাছেই এক প্রশ্ন। যিনি আজীবন নির্বাসনকে ঘৃণা করেছিলেন, তাঁকে কি আমরা আরও নির্বাসিত রেখেই স্মরণ করব?


