উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে আবারও রাজনৈতিক সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত মিলছে। জলপাইগুড়ি জেলার ডামডিমের মাটিয়ালি এলাকার একাধিক চা বাগান ঘুরে উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—চা শ্রমিকদের বড় অংশ এখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ওপর আস্থা রাখছেন। বিশেষ করে মহিলা শ্রমিকদের মধ্যে এই সমর্থন আরও স্পষ্ট।
প্রতিদিন চা পাতা তুলতে আসা শ্রমিক চারু মান্ডি বলেন, “চা বাগানে কাজ করে মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা রোজগার হয়। তার সঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে দেড় হাজার টাকা পাই। বাড়ির ছেলেদের জন্যও সাহায্য আসে। চাল, আটা, বার্ধক্য ভাতা—সব মিলিয়ে মাস গেলে প্রায় দশ হাজার টাকার মতো হয়ে যায়। তাই আমরা দিদিকেই চাই।” তার কথায় স্পষ্ট, সরাসরি আর্থিক সহায়তা এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।
একই সুর শোনা গেল সরস্বতী লোহার-এর গলায়। তিনি বলেন, “বিজেপি একসময় ফ্রিতে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই সুবিধা নেই। উল্টে হাজার টাকার বেশি খরচ পড়ছে গ্যাস কিনতে।” এই বক্তব্যে কেন্দ্রের নীতির প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলাকায় অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম না নিয়ে সরাসরি “মমতা দিদি”-র নামেই সমর্থন জানাচ্ছেন। এতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রভাব আরও একবার সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, নগদ সহায়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় চা শ্রমিকদের ভোটের আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকায় বিজেপি যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেট এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রভাবে সেই সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। চা বলয়ের ভোটব্যাঙ্ক যে আবারও নতুন করে দোলাচলে, তা স্পষ্ট।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই অঞ্চল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চা বাগানের শ্রমিকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে শেষ পর্যন্ত ইভিএমে পড়া ভোটই নির্ধারণ করবে আসল চিত্র।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে এখন ‘দিদি ফ্যাক্টর’ আবারও বড় ভূমিকা নিতে পারে, যা আগামী নির্বাচনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।


