দোলের দিনেই রাজনৈতিক মহলে বড় ঘোষণা। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যসভায় পাঠানো হচ্ছে গেরুয়া শিবিরের প্রবীণ মুখ রাহুল সিনহাকে। মঙ্গলবার একসঙ্গে একাধিক রাজ্যের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি। বাংলায় দলের একমাত্র আসনে ভরসা রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ এই নেতার উপরেই।
আগামী ১৬ মার্চ উচ্চকক্ষের নির্বাচন। সংখ্যার অঙ্কে স্পষ্ট, এই আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। ফলে আনুষ্ঠানিকতা সেরেই সংসদের উচ্চকক্ষে পৌঁছে যাবেন রাহুল। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক পরিসরে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। ঠিক সেই সময়েই এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলার রাজনীতিতে রাহুল সিনহার যাত্রা আজকের নয়। অল্প বয়সে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আদর্শিক রাজনীতির ভিত গড়ে তোলেন। আশির দশক থেকে টানা সংগঠনের কাজ। ২০০৯ থেকে ২০১৫— টানা ছ’বছর তিনি ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। কঠিন সময়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-এর বিরুদ্ধে। সেই লড়াইয়ে জয় না এলেও দলীয় আনুগত্যে কখনও ভাটা পড়েনি। সংগঠনের অন্দরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বরাবরই ছিল উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়, প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। ফলে বাংলার আসনগুলির ফল কার্যত নিশ্চিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির উচ্চকক্ষে রাহুল সিনহার প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সংগঠনের পুরনো নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা। দোলের রঙের দিনেই তাই গেরুয়া রাজনীতিতে নতুন রঙ— রাজ্যসভায় রাহুল সিনহার নতুন অধ্যায় শুরু।


