ভারত যখন ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে DRDO-র অত্যাধুনিক লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক মিসাইল (LRAShM)। আগামী ২৬ জানুয়ারি, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে দিল্লির কর্তারব্য পথে প্রথমবার জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র, যা ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার আরেকটি বড় প্রতীক হয়ে উঠছে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি এই হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইলের পাল্লা প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভেদ করে সমুদ্রে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে পারে। DRDO সূত্রে জানা গেছে, LRAShM এমন গতিতে চলে যে শত্রুর রাডারের পক্ষে একে শনাক্ত করাই কার্যত অসম্ভব।
ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রকল্পের ডিরেক্টর এ. প্রসাদ গৌড় জানিয়েছেন, এই মিসাইলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার হাইপারসনিক গতি। তাঁর কথায়, ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রয়োজন মাথায় রেখেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরি করা হয়েছে এবং এর গতির কারণে শত্রু রাডার একে ধরতে পারে না। তিনি আরও জানান, প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই আঘাত হানতে সক্ষম LRAShM।
বিভিন্ন ধরনের পেলোড বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে থাকা সব ধরনের যুদ্ধজাহাজকে নিশানা করতে পারে। ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌশক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এই প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, LRAShM ভারতের সামুদ্রিক আক্রমণ কৌশলে এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে DRDO-র ট্যাবলোয় LRAShM-এর পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে ধনুষ গান সিস্টেম, আকাশ (L) লঞ্চার এবং সূর্যাস্ত্র রকেট লঞ্চার-এর মতো একাধিক দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে এই ট্যাবলো ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও স্বদেশি প্রযুক্তির শক্ত বার্তা দেবে দেশ ও বিশ্বের সামনে।


