ধর্ম নয়, মানবতাই তাঁর পরিচয়—এ কথা বারবার কাজে প্রমাণ করেছেন সলমন খান। পর্দায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা হোক বা বাস্তবে ‘বিইং হিউম্যান’-এর হাত ধরে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো—সলমনের বিশ্বাস মানবতার ধর্মে। সেই কারণেই হয়তো আরএসএসের শততম বর্ষের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ল।
মুম্বইয়ে আয়োজিত দু’দিনের আলোচনা সভার শনিবারের পর্বে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই পৌঁছন বলিউডের ‘ভাইজান’। একই মঞ্চে দেখা যায় হেমা মালিনী ও রণবীর কাপুরকেও। সলমনকে সামনে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন উপস্থিত দর্শকরা। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতও তাঁর উপস্থিতিকে স্বাগত জানান।
ভাষণে সলমনের জনপ্রিয়তাকে সমাজগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান মোহন ভাগবত। তাঁর কথায়, “কলেজ পড়ুয়ারা সলমনের ফ্যাশন অনুসরণ করে, কারণ সলমন যা করেন সেটাই ট্রেন্ড হয়ে ওঠে। সেই প্রভাব যদি সামাজিক মূল্যবোধের দিকে যায়, সেটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।”
আরএসএসের কাজের ধরন নিয়েও বক্তব্য রাখেন সংঘ প্রধান। তাঁর দাবি, “আরএসএসের কাজের ধরন অনন্য। ভারত তো বটেই, ইউরোপ, আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকেও মানুষ এসে এই কাজ দেখেন, প্রশংসা করেন।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা—আরএসএস জনপ্রিয়তা বা ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে; বিরোধ নয়, কাজই তাদের পথ।
তবে সলমনের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত প্রশ্ন তুলেছেন, “ভিড় টানতে বা মুসলমানদের কাছেও বার্তা দিতেই কি সলমনকে ডাকা?” সংঘ প্রধানকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “এটা কি মুসলমান-বিরোধী রাজনীতির অংশ?”
এই বিতর্কে এখনও পর্যন্ত আরএসএস বা সলমন খানের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই। তবে একথা স্পষ্ট—মানবতার বার্তা দেওয়া এক তারকার উপস্থিতি রাজনীতির ময়দানে নতুন বিতর্কের ঢেউ তুলেছে।


