২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বে ফের একবার চর্চার কেন্দ্রে সিঙ্গুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার পর চলতি মাসেই সিঙ্গুরের মাটিতে জনসভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করবেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই বাংলার বাড়ি (আবাস যোজনা) প্রকল্পের কিস্তির টাকা প্রদান করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের খবর ছড়াতেই সিঙ্গুর ও হুগলি জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা—এই সভা থেকে শিল্প নিয়ে কোনও বড় বার্তা বা ঘোষণা আসে কি না। কারণ, রবিবার সিঙ্গুরে সভা করলেও শিল্প নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আগে শিল্প নিয়ে বড় ঘোষণার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে সেই সভায় শিল্প প্রসঙ্গ প্রায় অনুচ্চারিতই থেকে যায়। তা নিয়েই বঙ্গ বিজেপির অন্দরেও প্রশ্ন উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে মোদির সভার পরপরই মুখ্যমন্ত্রীর সিঙ্গুর সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে রাজ্য মন্ত্রিসভার সিলমোহর পড়েছে। ১১.৩৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে বলেও জানা যাচ্ছে।
একসময় শিল্পের নামে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকেই সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। বিরোধী নেত্রী থেকে রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে এই সিঙ্গুরই হয়ে উঠেছিল অনুঘটক। ক্ষমতায় আসার পর চাষিদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল তাঁর সরকার।
ক্ষমতায় থাকার প্রায় ১৫ বছর পর আবারও সেই সিঙ্গুরেই ফের নজর রাজ্য রাজনীতির। উন্নয়ন, শিল্প ও জনকল্যাণ—এই তিন বার্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভা কোন দিশা দেখায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা রাজনীতি।


