এসআইআর শুনানির নামে রাজ্যজুড়ে যে হয়রানির ছবি সামনে আসছে, তা নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি প্রশ্ন তুললেন—কেন ৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বয়স্কদের প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো হচ্ছে না, উল্টে ভয় ও মানসিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
মমতার দাবি, এসআইআর পর্ব চলাকালীন একের পর এক মৃত্যুর খবর মিলছে। পুরুলিয়ায় সাম্প্রতিক এক বৃদ্ধের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধুমাত্র শুনানিতে পৌঁছনোর চিন্তাই বহু মানুষকে অসুস্থ করে তুলছে। তাঁর কড়া বার্তা—একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করা হবে।
রাজ্য জুড়ে এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়ে বহু মানুষ ব্লক অফিসে ভিড় করছেন। তালিকায় রয়েছেন প্রবীণ থেকে দিব্যাঙ্গরাও। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তৈরি হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ। এই অভিযোগ নিয়েই আগেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে দ্বারস্থ হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে পুরুলিয়ার ৮২ বছরের দুর্জন মাঝির মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। জানা গিয়েছে, শুনানির চিঠি পাওয়ার পর থেকেই প্রবল দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। শুনানির দিন ব্লক অফিসে যাওয়ার জন্য টোটো খুঁজতে বেরিয়ে আর ফেরেননি। পরে বাড়ির কাছে রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। পরিবারের তরফে এই ঘটনার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসআইআর ঘিরে এভাবেই রাজনীতির উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।


