এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যজুড়ে মৃত্যু! মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার ঘোষণা

Spread the love

রাজ্যে ভয়, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। বিভিন্ন জেলায় এই আতঙ্কের জেরে একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও দেশছাড়া হওয়ার ভয়ে আত্মহত্যা, কোথাও আবার মানসিক চাপের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু—এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতির ছবি উঠে এসেছে রাজ্যজুড়ে। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর আতঙ্কে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদেরও রাজ্যের তরফে সাহায্য করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর অর্থাৎ ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্তকরণের কাজ। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে চলবে। কমিশনের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কারও নাম থাকলে তাঁর কোনও উদ্বেগের কারণ নেই। তবু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের পাহাড় ও অনিশ্চয়তা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আতঙ্ক চরমে। কেউ ভবিষ্যতের আশঙ্কায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ, আবার কেউ মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে মারা গিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। শুধু সাধারণ মানুষ নন, এই চাপ থেকে রেহাই পাননি ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)রাও। কাজের অতিরিক্ত চাপ ও আতঙ্কের কারণে ৩ জন বিএলও আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে বিএলও-সহ মোট ১৩ জন আতঙ্ক ও মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মৃত দুই বিএলওর পরিবার ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন। একজন এখনও নেননি, চাইলে তিনিও পাবেন। রাজ্যে মোট ৩৯ জন এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আর যাঁরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন, তাঁরা পাবেন ১ লক্ষ টাকা।”

এরপর মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সুরে বলেন, “দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে যেমন সরকার সাহায্য করে, এখন কেন করবে না? মনে রাখতে হবে—মেয়েরা যেমন সংসার সামলায়, সরকারও ঠিক তেমনই।”


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *