প্রায় ন’বছর পর ফের রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের এসএসসি পরীক্ষা। রবিবার নবম ও দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে এই পর্ব। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষ পঁইষট্টি হাজার। এর মধ্যে নবম ও দশমে অংশ নেবেন তিন লক্ষ ঊনিশ হাজার পরীক্ষার্থী, আর একাদশ ও দ্বাদশের পরীক্ষার্থী সংখ্যা দু’লক্ষ ছেচল্লিশ হাজার। প্রথম দিন পরীক্ষার জন্য ৬৩৬টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, আর দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা হবে ৪৭৮টি কেন্দ্রে।
পরীক্ষার্থীদের সকাল দশটার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। অ্যাডমিট কার্ডে সকাল ১১টার উল্লেখ থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। সর্বোচ্চ প্রবেশের সময় নির্ধারিত হয়েছে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট। দুপুর ১২টায় পরীক্ষা শুরু হবে। সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাবে কেন্দ্রে। ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট তুলে দেওয়া হবে। তবে ১২টার আগে কেউ প্রশ্নপত্র খোলার অনুমতি পাবেন না।
প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। অ্যাডমিট কার্ড ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকা যাবে না। অ্যাডমিট কার্ডে বারকোড থাকবে, যার মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করা হবে। যদি ছবিতে বা সইয়ে সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে আসল পরিচয়পত্র ও তার স্বপ্রত্যয়িত ফটোকপি সঙ্গে থাকলে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা স্বচ্ছ কলম, স্বচ্ছ জলের বোতল, ঘড়ি ও ফটো আইডি কার্ড নিয়ে ঢুকতে পারবেন। প্রত্যেকের জন্য আলাদা করে কলমেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে মোবাইল ফোন বা স্মার্টওয়াচ নিয়ে কেউ হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি ইনভিজিলেটর, ভেন্যু ইনচার্জ বা অবজার্ভারদেরও মোবাইল নিয়ে হলে ঢোকার অনুমতি থাকবে না।
প্রশ্নফাঁস রুখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রে এমন ব্যবস্থা থাকবে যাতে কেউ ছবি তোলার বা বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করলেই তা শনাক্ত করা যায়। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণত স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকারা ভেন্যু ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তবে প্রয়োজনে তিনি অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীদের জন্য স্ক্রাইবের ব্যবস্থা রয়েছে। নবম–দশম পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্ক্রাইবের ন্যূনতম যোগ্যতা একাদশ শ্রেণি পাশ এবং একাদশ–দ্বাদশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্নাতক হতে হবে। পরীক্ষার্থীরা যদি কোনও দামি জিনিস নিয়ে আসেন, তবে টোকেনের মাধ্যমে নিরাপদে তা জমা রাখার ব্যবস্থা থাকবে।


