হাসপাতালের সাদা দেওয়ালের ভেতরেও এখন বইছে পড়াশোনার হাওয়া। চিকিৎসার লড়াইয়ের মাঝেও ছোট ছোট মুখে ফেরানো হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল-এ শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় যেমন জোর দেওয়া হচ্ছে, তেমনই গুরুত্ব পাচ্ছে নির্ভুল রোগ নির্ণয়। আর সেই নির্ভুলতার অন্যতম হাতিয়ার এখন ফিস টেস্ট।
ফিস টেস্টের পুরো নাম ফ্লুরোসেন্স ইন সিটু হাইব্রিডাইজেশন। নাম শুনতে জটিল হলেও কাজটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরের কোষের ভিতরে থাকে ক্রোমোজোম, আর সেই ক্রোমোজোমে থাকে জিন—যা শরীরের বৃদ্ধির নকশা ঠিক করে দেয়। ক্যানসার অনেক সময় এই জিন বা ক্রোমোজোমের গঠনে পরিবর্তনের ফল। কিন্তু সেই পরিবর্তন সবসময় সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।
সেখানেই ফিস টেস্টের ভূমিকা। বিশেষ রঙিন প্রোব ব্যবহার করে কোষের ভিতরে নির্দিষ্ট জিন বা ক্রোমোজোম অংশকে আলোকিত করা হয়। অস্বাভাবিক ভাঙন, জোড়া লাগা বা স্থান পরিবর্তন—সব কিছুই তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে বোঝা যায় রোগটি ঠিক কোন ধরনের এবং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া। এই রোগের চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্যের উপর। ফিস টেস্ট সেই জিনগত মানচিত্র স্পষ্ট করে দেয়। ফলে চিকিৎসকরা ঠিক করতে পারেন কোন ওষুধে দ্রুত সাড়া মিলবে, কতদিন চিকিৎসা চলবে এবং পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা কতটা।
আগে এমন পরীক্ষা অনেক সময় বাইরে পাঠাতে হত। এখন এসএসকেএম হাসপাতাল-এই ফ্লো সাইটোমেট্রি, ক্যারিওটাইপিংয়ের পাশাপাশি ফিস টেস্ট চালু হওয়ায় সময় বাঁচছে, সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে দ্রুত। প্রথম পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।
শিশুদের ক্যানসার মানেই আর অন্ধকার নয়—সময়ের আগে রোগ চিহ্নিত করা গেলে আলো ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবল। আর সেই আলো পৌঁছে দিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই আধুনিক পরীক্ষাগুলিই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় সহায়ক।


