রাজ্যে ফের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী Bratya Basu। খুব শীঘ্রই আরও ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করবে রাজ্য শিক্ষাদপ্তর বলে জানালেন তিনি। শনিবার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে বিধাননগর পুরসভার তেঘরিয়া শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়কে বাংলা মাধ্যম থেকে সরকারিভাবে কো-এড ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যম স্কুলে উন্নীত করার সূচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা প্রায় ২৬ হাজার প্রার্থীর চাকরি ফেরানোর প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই ব্রাত্য বসু বলেন, “২৬ হাজার অনিশ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগেই শেষ নয়, খুব শীঘ্রই আরও ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করবে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর।”
এদিন শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন তিনি। মিড-ডে মিল এবং স্কুল উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে বাম আমলের শিক্ষা নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই সময় সরকারি স্কুল থেকে ইংরেজি শিক্ষাকে তুলে দেওয়ার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
ব্রাত্য বসুর বক্তব্য, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা এবং শিকড়ের ভাষা। তাই বাংলা শেখা অত্যন্ত জরুরি। তবে পাশাপাশি ইংরেজি ও হিন্দি ভাষাকেও সম্মান করে শেখার প্রয়োজন রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee সরকারি স্কুলগুলিতে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার উপরও জোর দিয়েছেন।
এই লক্ষ্যেই বাগুইআটি এলাকার প্রায় আট দশকের পুরনো তেঘরিয়া শিক্ষানিকেতন বিদ্যালয়কে ইংরেজি মাধ্যমেও উন্নীত করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন স্কুলের পরিকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দমদমের সাংসদ Saugata Roy, রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক Aditi Munshi, বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ সদস্য দেবরাজ চক্রবর্তী, স্থানীয় কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরুণ পাল এবং স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি অনু চৌধুরি সহ অন্যান্যরা।


