ভোটের মুখে রাজ্যে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন প্রশাসনিক জট। প্রায় ১৩ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন, অথচ যেই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা, সেই ব্যবস্থাই এখনও কার্যকর হল না।
আগামীকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরুর কথা থাকলেও, বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না বলেই জানা যাচ্ছে। মূল কারণ— পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব এবং স্পষ্ট নির্দেশিকার ঘাটতি। ফলে গোটা প্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, একাধিক বিচারপতি এই দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, নির্দিষ্ট এসওপি ছাড়া এত বড় সংখ্যক মামলার শুনানি চালানো সম্ভব নয়। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হলেও সমাধান মেলেনি। কমিশন জানিয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে— কিন্তু কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়।
এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— ভোটের আগে কি আদৌ এই বিপুল সংখ্যক ‘ডি-ভোটার’ বা বাদ পড়া নামের নিষ্পত্তি সম্ভব? কারণ সময় যত এগোচ্ছে, ততই কমছে প্রস্তুতির সুযোগ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা করা হলেও, মাটিতে তার বাস্তব চিত্র এখনও অস্পষ্ট। অনলাইন-অফলাইন আবেদন জমা পড়েছে ঠিকই, কিন্তু শুনানির প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
গোটা পরিস্থিতি এখন একটাই বার্তা দিচ্ছে— প্রশাসনিক প্রস্তুতির ঘাটতিতে ভোটারদের অধিকারই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তায়।


