আমেরিকার নতুন শুল্কনীতির জেরে অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক ডাক পরিষেবায়। চলতি মাসের ২৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশ, যেখানে বাতিল করা হচ্ছে আগের শুল্কমুক্ত সুবিধা। এত দিন পর্যন্ত ৮০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পণ্য পাঠাতে কোনও কর দিতে হত না। এবার থেকে কেবলমাত্র ১০০ ডলার মূল্যের উপহারের ক্ষেত্রেই মিলবে ছাড়।
এর জেরেই আগামী ২৫ আগস্ট থেকে আমেরিকায় ডাকযোগে চিঠি বা পার্সেল পাঠানো সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ডাক বিভাগ। যাঁরা ইতিমধ্যেই বুকিং করেছেন, তাঁদের পার্সেলও এবার আর আমেরিকা যাবে না, বরং ফেরত পাঠানো হবে। শুধু ভারত নয়, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়ামের মতো দেশও একই পথে হেঁটেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটনের নীতি। সম্প্রতি ভারতীয় রপ্তানির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তার পরেই রুশ তেল কেনার অভিযোগে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয় দিল্লির উপর। তবে আমেরিকার হুঁশিয়ারি পাত্তা না দিয়ে উল্টে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বরাত বাড়িয়েছে ভারত। উরাল ক্রুডে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার ছাড় মেলায় সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে বিপুল অর্ডার দিয়েছে দিল্লি।
এই আবহেই মস্কো সফরে গিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। রুশ সংস্থাগুলিকে ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—“দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারত ও রাশিয়ার। আরও শক্তিশালী করতে হবে এই বন্ধন।”
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার শুল্কচাপে যেখানে একাধিক দেশ নড়বড়ে অবস্থায়, সেখানে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করে ওয়াশিংটনকেই পালটা বার্তা দিচ্ছে দিল্লি।


