ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দাবি এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘোষণায় কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশটিতে। রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক এলাকায় গভীর রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, আতঙ্কে ঘর ছাড়েন সাধারণ মানুষ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ও সরকারি বিবৃতিতে জানান, বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মাদক পাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্ন উঠছে।
ভেনেজুয়েলার সরকারি মহল অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলছে। দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি এবং সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে “মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক আগ্রাসন। একই সঙ্গে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে একজোট হতে হবে।
এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ একাধিক লাতিন আমেরিকার দেশ মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা করেছে এবং একে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে কিছু পশ্চিমি দেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘেও বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনার দাবি উঠেছে বলে খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। আদৌ মাদুরো আটক হয়েছেন কি না, নাকি এটি কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল—তা স্পষ্ট না হলেও, একটি বিষয় নিশ্চিত, ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার অধ্যায় শুরু হয়ে গেল।
মার্কিন হামলার দাবিতে উত্তাল ভেনেজুয়েলা, মাদুরো আটক কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা


