ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে চরম চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন। অষ্টম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে কমিশন জানাল, এই দফায় প্রায় ৩ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ৫২ লক্ষ। কিন্তু এখনও থামেনি দৌড়—আরও ৭ লক্ষের বেশি নাম ঝুলে রয়েছে অনিশ্চয়তায়।
প্রথমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে চলছে এই বিশাল যাচাই প্রক্রিয়া। কমিশনের দাবি, বর্তমান গতিতে কাজ এগোলে ৭ এপ্রিলের মধ্যেই সম্পূর্ণ তালিকা নিষ্পত্তি সম্ভব। কিন্তু বাস্তব চিত্রে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এত অল্প সময়ে এত বিশাল কাজ কতটা নির্ভুলভাবে শেষ করা যাবে?
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাদ পড়া নামগুলি নিয়ে। কমিশন এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি, ঠিক কতজনের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বা নতুন করে যুক্ত হয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের একাধিক জেলায়। বহু মানুষ অভিযোগ করছেন, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম উধাও হয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। মালদহে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রাক্তন বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে প্রশ্ন একটাই—ভোটের আগে এই বিশাল সংশোধন প্রক্রিয়ায় আদৌ কি স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে নির্বাচন কমিশন? নাকি ভোটের আগেই বাড়বে বিতর্কের আগুন?


