বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে আচমকা বড় সাংবিধানিক পরিবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করেছেন। তাঁর জায়গায় বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন আর এন রবি, যিনি বর্তমানে তামিলনাড়ু-র রাজ্যপাল। এই খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোশাল মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, রীতি মেনে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, তাঁকে ফোন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নতুন রাজ্যপালের নাম জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত হানতে পারে।
রাজ্যপাল আনন্দ বোসের মেয়াদ শেষ হতে এখনও দেড় বছরেরও বেশি সময় বাকি ছিল। ঠিক সেই সময়েই তাঁর পদত্যাগের ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। আবার কারও মতে, শারীরিক অসুস্থতার কারণেও তিনি দায়িত্ব ছেড়ে থাকতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের আরেক অংশের দাবি, এর পিছনে কেন্দ্রের রাজনৈতিক হিসাবও থাকতে পারে।
এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কোনও দলের নাম না করলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আনন্দ বোস কেন পদত্যাগ করলেন সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার কথায়, কোনও আলোচনা ছাড়া সরাসরি নতুন রাজ্যপালের নাম ঘোষণা করা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী। কেন্দ্রের উচিত গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সম্মান করা এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে মর্যাদা দেওয়া। নইলে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।


