শংকু সাঁতরা : ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে চাপের মুখে পড়ল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারতের অর্থনীতি এর ফলে বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, চা–কফি, মসলা এবং তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা—সব মিলিয়ে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে এসব পণ্যের দাম সেখানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে ভারতীয় সংস্থাগুলি।
প্রথম আঘাত আসতে পারে শ্রমনির্ভর খাতে। টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য বা ছোট শিল্পে রপ্তানি হ্রাস পেলে উৎপাদন কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাকরির ওপর। লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ সংকীর্ণ হলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সস্তা জেনেরিক ওষুধ সরবরাহে ভারত মার্কিন বাজারে অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়। নতুন শুল্কের কারণে আমেরিকান ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে পারেন, এতে আয় কমে যাবে ভারতীয় কোম্পানির। একই সঙ্গে চা, কফি, মসলা ইত্যাদি কৃষিজাত পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিন আমদানিকারকরা লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকার বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
যদিও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা খাত তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে, তবু সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার রপ্তানিতেও ধাক্কা লাগতে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে ভারতের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিবিদরা দুটি পথের কথা বলছেন—নতুন বাজার তৈরি করা এবং আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক নীতি শিথিল করানো। সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ না নেয়, তবে ভারতের শিল্পক্ষেত্র ও রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিছক একটি বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতাই নয়, ভারতের জন্য এটি একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও বটে। এখন সকলের নজর দিল্লির পদক্ষেপের দিকে।


