ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপে চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা ও টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল টাটা ট্রাস্টসের গভার্ন্যান্স ও নেতৃত্ব সংক্রান্ত সংকট মেটানো এবং গোষ্ঠীর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
সূত্রের খবর, টাটা ট্রাস্টসের একাধিক ট্রাস্টির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একাংশ ট্রাস্টি বোর্ডের নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দাবি করছেন। অন্যদিকে, নোয়েল টাটার নেতৃত্বাধীন পক্ষ ঐতিহ্যবাহী গভার্ন্যান্স কাঠামো বজায় রাখার পক্ষে। এই মতভেদের জেরেই ট্রাস্টের অভ্যন্তরে তীব্র অশান্তি দেখা দিয়েছে।
সরকারের তরফে অমিত শাহ ও নির্মলা সীতারমন টাটা নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, “যা করার দরকার, করুন, কিন্তু গোষ্ঠীর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনুন।” সরকারের এই পদক্ষেপে বোঝা যাচ্ছে যে, টাটা গ্রুপের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এখন আর শুধুমাত্র একটি বেসরকারি কর্পোরেট সমস্যা নয়, বরং তা দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।
টাটা ট্রাস্টস টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ার ধরে রেখেছে, তাই এই সংঘাতের প্রভাব গোটা টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন এই অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে এবং বড় বড় ব্যবসায়িক প্রকল্পের গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমানে সরকারের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। টাটা ট্রাস্টসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কীভাবে মেটে, সেটিই এখন কর্পোরেট দুনিয়ার নজরকাড়া বিষয়।


