আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের পর্নোগ্রাফি র্যাকেট নিয়ে ফের তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়ায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে বাম দলগুলি যখন সরব, ঠিক তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— তাদের শাসনামলেই নাকি ওই সরকারি মেডিক্যাল কলেজে রমরম করে চলত পর্ন-র্যাকেট। আর সেই চক্রের বলি হয়েছিলেন এক তরুণ ডাক্তারি পড়ুয়া!
ঘটনাটি ২০০১ সালের। সেই সময় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের বেলগাছিয়া হস্টেলে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সৌমিত্র বিশ্বাসের দেহ। বারাকপুরের বাসিন্দা সৌমিত্র কয়েকদিন আগে তাঁর অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন, কলেজের একাধিক গোপন রহস্য তিনি জেনে ফেলেছেন। তার পরই ঘটে এই রহস্যমৃত্যু।
তৎকালীন পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে জানালেও, সৌমিত্রের পরিবার অভিযোগ তোলে— এটি খুন। তাঁদের দাবি, ছেলেটি যথেষ্ট আনন্দে ও স্বাভাবিক ছিল, আত্মহত্যা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। অভিযোগপত্র জমা পড়ে রাজ্যপালের কাছেও।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নীতীশ রাজপুত তাঁর এক ভিডিও বার্তায় এই ঘটনার পুরনো নথি ও অভিযোগ সামনে আনেন। তাঁর দাবি, সেই সময় কলেজে এসএফআইয়ের দাপট ছিল প্রবল, আর তাদের প্রভাবেই পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
নীতীশের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই ঝড় উঠেছে নেটে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওতে লাইক পড়েছে ৩৭ হাজারেরও বেশি, মন্তব্যের সংখ্যা শতাধিক। নেটিজেনদের প্রশ্ন— “এত বছর পরে এই সত্যি কেন সামনে আসছে?” অনেকে আবার লিখেছেন, “এটাই বাম আমলের আসল চেহারা।”
২৪ বছর আগের এই নৃশংস ঘটনার পুনরুত্থানে ফের চাপে বামফ্রন্টের অতীত প্রশাসন, আর নতুন করে শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে।


