বারাসত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে এক মৃত ব্যক্তির চোখ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া কাজীপাড়ার বাসিন্দা প্রীতম ঘোষের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরে দুপুরে পরিবার দেহ নিতে গেলে চোখে দেওয়া তুলসী পাতার নীচে একটি চোখ নেই দেখে হতবাক হয়ে যায়। পরিবার সরাসরি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অঙ্গ পাচারের অভিযোগ তোলে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি—ইঁদুর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিন্তু পরিবার সেটি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, যদি ইঁদুর খেত তবে তার দাগ থাকত। এভাবে একটি চোখ পুরোপুরি নেই হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। অভিযোগ ঘিরে মর্গ চত্বরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, শুরু হয় বিক্ষোভ।
ঠিক সেই সময় বনগাঁ থেকে ফিরে কলকাতায় যাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভের কারণে তাঁর কনভয় আটকে যায়। মুখ্যমন্ত্রী নেমে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “যদি কেউ ইচ্ছে করে এমন কাজ করে থাকে, কঠোর শাস্তি হবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হবে, পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। মৃত প্রীতমের মায়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় চাকরি এবং প্রথম বছরের জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা জানান। তিনি নির্দেশ দেন, পরিবারের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে দ্রুত নিয়োগপত্র পৌঁছে দিতে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও হাসপাতাল প্রশাসন। পরিবার এখনও অঙ্গ পাচারের অভিযোগে অনড়। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


