লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের বৃদ্ধির গতি ধরে রাখাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। বড় কোনও কর-চমক নয়, বরং ধারাবাহিক নীতির মাধ্যমে অর্থনীতিকে মজবুত করার বার্তা স্পষ্ট।
বাজেট ২০২৬-এর প্রধান দিকগুলি—
১) আয়কর কাঠামোয় বদল নেই: মধ্যবিত্ত ও বেতনভোগীদের জন্য স্থিতাবস্থাই বজায়। কর ব্যবস্থায় পূর্বানুমেয়তা বজায় রাখার ইঙ্গিত।
২) অবকাঠামোয় রেকর্ড বিনিয়োগ: রেল, সড়ক, লজিস্টিক্স ও শহুরে পরিকাঠামোয় মূলধনী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
৩) উচ্চগতির রেল করিডর: একাধিক নতুন হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের ঘোষণা, যা বড় শহরগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থায় বদল আনবে।
৪) শিল্প ও উৎপাদনে জোর: সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০, বায়োফার্মা, কেমিক্যাল ও টেক্সটাইল খাতে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি।
৫) MSME-দের সহায়তা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য তহবিল, ঋণপ্রবাহ সহজ করা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক উদ্যোগ।
৬) কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: কৃষিতে প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা।
৭) শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন: স্কিলিং, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি।
৮) রাজস্ব শৃঙ্খলা: ব্যয় বাড়লেও আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল বজায়।
সব মিলিয়ে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের পেশ করা কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ কোনও হঠাৎ চমকের দলিল নয়। বরং এটি অবকাঠামো, শিল্প ও মানবসম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি পরিকল্পিত রূপরেখা—যেখানে স্থিতি ও আস্থাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


