ব্রিটেনের অভিজাত সামাজিক অনুষ্ঠান রয়্যাল অ্যাসকটে যোগ দিতে গিয়ে পোশাক নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় পড়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখিকা কমিনি বাঙ্গা। অনুষ্ঠানের ঐতিহ্য অনুযায়ী অধিকাংশ নারী যেখানে জমকালো ড্রেস ও আকর্ষণীয় টুপি পরেন, সেখানে তিনিও প্রথমে সেই পথেই হাঁটার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নেন নিজের শিকড়ের পরিচয় বহনকারী একটি চন্দেরি শাড়ি।
‘Wearing my Heart on my Sari at Royal Ascot’ শীর্ষক এক পোস্টে কমিনি জানান, আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি বন্ধুদের সঙ্গে লন্ডনের বিভিন্ন নামী ফ্যাশন স্টোরে গিয়ে পোশাক খুঁজেছিলেন। তাঁর ইংরেজ বন্ধুদের মতে, পশ্চিমি পোশাকেও তাঁকে দারুণ মানাচ্ছিল। কিন্তু আয়নায় নিজেকে দেখে তিনি উপলব্ধি করেন, সেই সাজে তিনি নিজের পরিচয়কে খুঁজে পাচ্ছেন না।
কমিনির কথায়, ব্রিটেনে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও এবং গত ২০ বছর ধরে ব্রিটিশ নাগরিক হলেও তাঁর ভারতীয় শিকড়ের টান অটুট রয়েছে। সেই অনুভূতি থেকেই শেষ পর্যন্ত তিনি শাড়ি ও ভিন্টেজ গয়না পরে অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সঙ্গীও ঐতিহ্যবাহী আচকান পরে উপস্থিত হন।
এই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরই স্পষ্ট হয়ে যায়। কমিনির দাবি, নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে অন্যান্য অতিথিরা তাঁদের পোশাকের প্রশংসা করেন। অনেকেই এগিয়ে এসে ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
তাঁর মতে, রয়্যাল অ্যাসকটের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে শাড়ি পরা শুধু ফ্যাশনের বিষয় নয়, বরং নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরার একটি সুযোগ। বিদেশের মাটিতে থেকেও যে নিজের ঐতিহ্যকে গর্বের সঙ্গে বহন করা যায়, সেই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন।
কমিনি বাঙ্গার এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সময় ও দূরত্ব বদলালেও নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও পুরোপুরি মুছে যায় না।


