সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ অভিষেকের

Spread the love

সংবিধান সংশোধনী এবং জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তারি বিলকে ঘিরে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেছেন, তার তীব্র বিরোধিতা করে সাংবাদিক বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেকের অভিযোগ, এসআইআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই এই বিল সামনে আনা হয়েছে। তিনি সরাসরি অমিত শাহকে আক্রমণ করে বলেন, “এই সরকার মানুষের সুরক্ষা নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নয়। শুধু ক্ষমতা আঁকড়ে ধরাই এদের লক্ষ্য। কাপুরুষের মতো ২০ জন মার্শাল নিয়ে এই বিল আনা হয়েছে।”

কেন্দ্র যে বিল লোকসভায় এনেছে, তাতে বলা হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ৩০ দিনের বেশি সময় জেলে থাকেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হবে।

এই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে তিনি নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই পাবেন না। তাঁর প্রশ্ন, “যে সব মামলায় নেতাদের গ্রেপ্তার করে বছরের পর বছর জেলে রাখা হয়, অথচ অপরাধ প্রমাণিত হয় না—সেই ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো কোথায়? অপরাধ প্রমাণের আগেই জেলবন্দি কেন?”

যদিও শর্তসাপেক্ষে তিনি বিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব, ৩০ দিনের বদলে ১৫ দিনের মধ্যেই পদ ছাড়ার বিধান আনা হোক। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তদন্তকারীদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিষেকের মন্তব্য, “আইন যদি সত্যিই নিরপেক্ষ হয়, তবে শাস্তি শুধু রাজনীতিবিদদের জন্য নয়, তদন্তকারীদের জন্যও হতে হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রের আনা নতুন এই বিল নিছক আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও। আর সেই কারণেই বিরোধী শিবির একে ‘গণতন্ত্রের উপর আঘাত’ বলেই ব্যাখ্যা করছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *