হাওড়া স্টেশনের ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছিলেন তিনি। হাতে জরিমানার বই, পরনে সাদা জামা-প্যান্ট, গলায় অফিসিয়াল ব্যাজ— একেবারে রেলের টিটির সাজ। যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানার টাকাও নিচ্ছিলেন। অথচ তিনি আসল টিটি নন, ভুয়ো! অবশেষে আরপিএফের নজরে পড়তেই ফাঁস হল প্রতারণার কাণ্ড।
অভিযুক্ত অরিত দাসকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে রেল সুরক্ষা বাহিনী। তখনই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। তাঁর ঝোলা থেকে উদ্ধার হয়েছে জাল জরিমানার বই, ইন্ডিয়ান রেলের লোগো লাগানো ব্যাজ, ভুয়ো আইডি কার্ড, মোবাইল ও নগদ ২২০০ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, ওই টাকা আদায় করা হয়েছিল টিকিটহীন যাত্রীদের কাছ থেকে।
রেল সূত্রে খবর, অরিত আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর এক চক্রের ফাঁদে পড়ে টিটির ভুয়ো চাকরি পান বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই চক্রই তাঁকে হাওড়া, শিয়ালদহ, বিধাননগরসহ বিভিন্ন স্টেশনে ‘ডিউটি’ করতে পাঠাত। কয়েক দিন ধরেই তিনি হাওড়া স্টেশনে ভুয়ো টিটির ভূমিকায় ছিলেন।
রেল পুলিশ মনে করছে, একটি বড় প্রতারণা চক্র এভাবে বেকার যুবকদের টিটির চাকরির লোভ দেখিয়ে ব্যবহার করছে। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার পর তাঁদের স্টেশনে নেমে যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা তুলতে পাঠানো হচ্ছে। চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে জিআরপি।


