লাদাখের অশান্ত পরিস্থিতি আরও তপ্ত হয়ে উঠল সোনম ওয়াংচুকের গ্রেপ্তারের ঘটনায়। সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মী হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত হলেও শুক্রবার তাঁকে হঠাৎ করেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, গণবিক্ষোভে উসকানি ও হিংসার ইন্ধন দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিরোধী দলনেতারা। শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “দেশপ্রেমের নামে বিজেপি নাটক করছে। সেনাদের জন্য যিনি সৌর তাঁবু তৈরি করেছেন, তাঁকেই বিশ্বাসঘাতক বলা হচ্ছে। অথচ পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় নির্লজ্জভাবে মেতে উঠছে সরকার।”
শুক্রবার নির্ধারিত সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর কয়েক মিনিট আগেই ওয়াংচুককে আটক করা হয়। রাতারাতি তাঁকে লাদাখ থেকে যোধপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। যাতে অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য লেহ-তে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে কড়া পুলিশি নজরদারি ও জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি।
ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইন। ফলে তাঁর মুক্তি কার্যত অনিশ্চিত। অনুগামীরা আশঙ্কা করছেন, এই আইনের ফাঁদে পড়ে দীর্ঘদিন কারাগারেই থাকতে হবে তাঁকে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, ওয়াংচুক আরব বসন্ত ও নেপালের জেন জি আন্দোলনের দৃষ্টান্ত টেনে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। মন্ত্রকের দাবি, তাঁর বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়েই জনতা সরকারি অফিস ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।
কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ওয়াংচুকের শিক্ষামূলক সংস্থার বিদেশি তহবিল গ্রহণের অনুমোদন বাতিল করেছে। ফলে একদিকে আইনি চাপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিতর্কে আরও বেশি করে কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন সোনম ওয়াংচুক।


