তৃণমূলে ‘কর্মসংস্কৃতি’র কড়া বার্তা: পারফরম্যান্স না থাকলে পদে থাকা যাবে না, ফের স্পষ্ট করলেন অভিষেক

Spread the love

তৃণমূল কংগ্রেসে ফের দেখা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া কর্মসংস্কৃতি। কাজ না করলে দলীয় পদে থাকা যাবে না— এই বার্তা আরও একবার স্পষ্টভাবে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। মঙ্গলবার দলের সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রায় চার হাজার নেতার সঙ্গে ওই বৈঠকে ছিলেন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাংসদ, বিধায়ক, পুরসভা ও কর্পোরেশনের মেয়র-চেয়ারম্যানরা, জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত নেতারা, শাখা সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং কোর কমিটির সদস্যরা। বৈঠকের শুরুতে বক্তব্য দেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। এরপরেই বক্তব্য পেশ করেন অভিষেক।

অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় জানান, দল পারফরম্যান্স নির্ভর। যেখানে যেখানে লোকসভা নির্বাচনে দল খারাপ ফল করেছে, সেখানে সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। এবার সেই রদবদলের ঢেউ বুথস্তরেও আছড়ে পড়তে চলেছে। তাঁর বার্তা— “যে বুথে ১০০-র বেশি ভোটে হার হবে, সেখানকার সভাপতির বদল হবেই।”

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পেলে কাজ করতেই হবে। শুধুমাত্র পদ আঁকড়ে পড়ে থাকলে চলবে না। কেউ যদি কাজ না করেন, তাঁকে জায়গা ছাড়তে হবে। যে সমস্ত বুথে বারবার দল পরাজিত হচ্ছে, সেখানে দায়িত্বে থাকা নেতাদের সরিয়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর কড়া বার্তা— “এই দল কারও পায়ে পড়ে রাখার জায়গা নয়। দল যদি না থাকে, তাহলে নেতা থেকেও লাভ নেই।”

সকলকে মনে করিয়ে দেন, দল মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব। তিনিই দলের সর্বময় নেত্রী। তাই তাঁকে সামনে রেখেই সবাইকে সংগঠনে কাজ করতে হবে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুথে বুথে লড়ে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। তার পরেই লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে ইস্তফা দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের তরফে সেই ইস্তফা মঙ্গলবারই গ্রহণ করা হয়। অনেকের মতে, এর মধ্য দিয়ে দল বুঝিয়ে দিয়েছে— কেউ দলের ঊর্ধ্বে নয়।

এই প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ফের দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। অভিষেকের এই বক্তব্য যে রাজ্যের আগামী রাজনীতিতে তৃণমূলের নতুন কর্মনীতি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই যায়।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *