ঘাটাল ও আরামবাগের প্লাবন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা সফরে বেরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি প্রথমে হুগলি জেলার কামারপুকুরে যান। সেখানে একটি ত্রাণ শিবিরে গিয়ে তিনি নিজের হাতে দুর্গতদের খিচুড়ি পরিবেশন করেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে এবং সবরকম সাহায্য করবে। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক দুর্গত মানুষ।
ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী যান কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে। সেখানে তিনি একটি অতিথি নিবাস এবং একটি পার্কিং লটের উদ্বোধন করেন। সেই সঙ্গে মঠের উন্নয়নের জন্য রাজ্যের তরফে ১০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “হিন্দু ধর্ম বোঝার জন্য অন্য কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের কর্মভূমি এই কামারপুকুরই যথেষ্ট। এখান থেকেই সমস্ত ধর্মের মধ্যে মিলনের বার্তা দেওয়া হয়েছে।”
এরপর মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালে। ডিভিসির জল ছাড়ার ফলে ঘাটালের বহু এলাকা গত দেড় মাস ধরে জলের তলায় রয়েছে। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্লাবন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

ঘাটালের দীর্ঘদিনের প্লাবন সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বর্ষা শেষ হলেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তিনি জানান, ড্রেজিং ও অন্যান্য কাজ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘাটালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ দেবও। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র এই প্রকল্পে সহযোগিতা করছে না। তাই রাজ্য সরকার একাই এই দায়িত্ব নিয়েছে।


